সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পোস্টগুলি

দশম শ্রেণি : সর্বশেষ প্রকাশিত প্রশ্নোত্তর

ভারতে দলিত আন্দোলনের বিকাশ

ভারতে দলিত আন্দোলনের বিকাশ ভারতে দলিত আন্দোলনের বিকাশ ভারতে দলিত আন্দোলনের বিকাশ কীভাবে হয়? How did the Dalit movement develop in India? দলিত কারা : ‘ দলিত ’ কথাটি এসেছে ‘ দলন ’ শব্দ থেকে, যার অর্থ হল দমিয়ে রাখা । যুগ যুগ ধরে ভারতীয় সমাজে উচ্চবর্ণের মানুষেরা নিম্নবর্ণের মানুষদের ওপর অর্থনৈতিক ও সামাজিক শোষণ, দমনপীড়ন ও বঞ্চনা চালিয়ে আসছে। উচ্চবর্ণের মানুষের দ্বারা শোষিত,নিপীড়িত ও বঞ্চিত এই নিম্নবর্ণের জনগোষ্ঠী ‘ দলিত ’ নামে পরিচিত। উল্লেখ্য, ভারতের ভিন্ন ভিন্ন প্রদেশে এই দলিত শ্রেণি ভিন্ন ভিন্ন নামে পরিচিত। কেরালায় এরা এজাভা ও পুলায়া , কর্নাটকে চালাভাদি , তামিলনাড়ুতে নাদার , মহারাষ্ট্রে মাহার , দিল্লিতে বাল্মিকী , জম্মু-কাশ্মীরে বাসিথ , উত্তর ভারতের চামার , এবং বাংলায় নমঃশূদ্র নামে পরিচিত। দলিত আন্দোলন কী : বিশ শতকের শুরু থেকে ভারতীয় ভূখণ্ডে বসবাসকারী এই সমস্ত শোষিত, নিপীড়িত ও বঞ্চিত জনগোষ্ঠী তাদের সঙ্গে ঘটে চলা সামাজিক ও অর্থনৈতিক বৈষম্যের বিরুদ্ধে এক ব্যাপক আন্দোলন গড়ে তোলে। এই আন্দোলন ‘ দলিত আন্দোলন ’ নামে পরিচিত। এইসব দলিত আন্দোলনের কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা হলেন — মাদ...
সাম্প্রতিক পোস্টগুলি

বিপ্লবী আন্দোলনে সুর্য সেনের অবদান

বিপ্লবী আন্দোলনে সুর্য সেনের অবদান লেখো। বিপ্লবী আন্দোলনে সুর্য সেনের অবদান Write Surya Sen's contribution to the revolutionary movement. ১৮৯৪ সালে ২২ শে মার্চ চট্টগ্রাম জেলার নোয়াপাড়া গ্রামে মাস্টারদা সূর্যসেন জন্মগ্রহণ করেন। বাংলা তথা ভারতের বিপ্লবী আন্দোলনের ইতিহাসে তাঁর নাম স্বর্ণাক্ষরে লিখিত আছে। শিক্ষকতা করার সময়ই তিনি বিপ্লবী আদর্শের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন এবং বিদ্রোহের মুখ্য নায়ক (‘ মাস্টারদা ’) হয়ে ওঠেন। বিপ্লবী আন্দোলনে সূর্য সেনের অবদান বিপ্লবী আদর্শের প্রচার : মাস্টারদা সূর্যসেন বিশ্বাস করতেন যে, অহিংস ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনের মাধ্যমে ব্রিটিশ সরকারের পতন ঘটানো সম্ভব নয়। এর জন্য প্রয়োজন সশস্ত্র বিপ্লবী আন্দোলন।  বিপ্লবী আদর্শের লক্ষ্য : এই আদর্শের প্রচার ও প্রসারের লক্ষ্য ছিল পরিকল্পিতভাবে চট্টগ্রামে একটি সশস্ত্র বৈপ্লবিক অভ্যুত্থান ঘটানো এবং চট্টগ্রাম থেকে ব্রিটিশ শাসনের অবসান ঘটানো। সেই সঙ্গে চট্টগ্রামকে একটি ‘ স্বাধীন অঞ্চল ’ হিসেবে ঘোষণা করা। বিপ্লবী সংগঠন স্থাপন : এই আদর্শ ও লক্ষ্যকে সামনে রেখে মাস্টারদা সূর্যসেন সশস্ত্র আন্দোলন গড়ে তোলার চেষ্টা করেন। এই উদ্দেশ্...

সশস্ত্র বিপ্লবী আন্দোলনে নারীদের ভূমিকা

সশস্ত্র বিপ্লবী আন্দোলনে নারীদের ভূমিকা বিশ্লেষণ কর। মাধ্যমিক - ২০১৭ সশস্ত্র বিপ্লবী আন্দোলনে নারীদের ভূমিকা উনিশ শতকে পাশ্চাত্য শিক্ষার প্রসারের ফলে ভারতে নারী সমাজের অবস্থান সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ে। ‘ বামাবোধিনী’র মত পত্রিকা এই চেতনাকে জনপ্রিয় করে তোলে। ফলে নারীরা ঘরের বাইরে বেরোতে উৎসাহিত হয়, যার প্রভাব পড়ে ভারতীয় রাজনীতিতেও। সশস্ত্র বিপ্লবী আন্দোলনে নারীদের ভূমিকা বিশ্লেষণ করলে এই প্রভাব স্পষ্ট হয়ে ওঠে।  সশস্ত্র বিপ্লবী আন্দোলনে নারীদের ভূমিকা : প্রেক্ষাপট বা পটভূমি : বঙ্গভঙ্গকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা স্বদেশী আন্দোলনের সময় প্রথম নারীরা সক্রিয়ভাবে রাজনীতিতে অংশগ্রহণের অনুপ্রেরণা পায়। এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলো কৃষ্ণকুমার মিত্রের কন্যা কুমুদিনী মিত্রে র ‘ সুপ্রভাত ’ এবং মীরা দাশগুপ্তে র ‘ বেনু ’ পত্রিকা। নারী পরিচালিত এই পত্রিকা দুটি মেয়েদের মধ্যে স্বদেশপ্রেম জাগিয়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। সরলাদেবী চৌধুরানীর  ‘ লক্ষ্মীর ভান্ডার’ গঠন ও ‘ বীরাঙ্গনা ব্রত’ পালনের মাধ্যমে নারীদের স্বদেশী চেতনায় উদ্বুদ্ধ ও অস্ত্র চালনায় পারদর্শী করে তুলেছিলেন। ...

খেলার ইতিহাসের উদ্দেশ্য বা গুরুত্ব কী?

খেলার ইতিহাসের উদ্দেশ্য বা গুরুত্ব কী? খেলার ইতিহাসের উদ্দেশ্য বা গুরুত্ব কী? আধুনিক ইতিহাসচর্চায় খেলার ইতিহাসের উদ্দেশ্য বা গুরুত্ব কী? অথবা, খেলাধুলার ইতিহাসকে ইতিহাসচর্চার অঙ্গীভূত করা হয়েছে কেন? বিশ শতকের ৭০-এর দশকে ইউরোপে খেলার ইতিহাসচর্চার সূচনা হয়। ১৯৮০ দশকে টনি ম্যাসান , রিচার্ড হোল্ট প্রমুখের গবেষণায় খেলার ইতিহাসচর্চা সমৃদ্ধ হয়। ১৯৮২ সালে ‘ব্রিটিশ সোসাইটি অফ স্পোর্টস হিস্ট্রি’ প্রতিষ্ঠিত হলে খেলার ইতিহাসচর্চা সাংগঠনিক রূপ পায়। বস্তুত, বিশ শতকের শেষ তিন দশক ধরে খেলাধুলো সংক্রান্ত যে ইতিহাসচর্চা শুরু হয় তা ‘খেলাধুলার ইতিহাসচর্চা’ নামে পরিচিত। খেলাধুলার ইতিহাসচর্চার উদ্দেশ্য বা গুরুত্ব : প্রকৃতপক্ষে আধুনিক ইতিহাসচর্চায় (ইতিহাস লেখায়) খেলাধুলার ইতিহাস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। আর এ কারণেই খেলাধুলার ইতিহাসকে আধুনিক ইতিহাসচর্চার অঙ্গীভূত করা হয়েছে। ঐতিহাসিক গ্রান্ট জার্ভিস তাঁর ‘ স্পোর্টস কালচার এন্ড সোসাইটি : অ্যান ইন্ট্রোডাকশন ’ গ্রন্থে ইতিহাসের বৃহত্তর প্রেক্ষাপটে খেলার গুরুত্ব ব্যাখ্যা করেছেন। খেলাধুলা মানুষের সংস্কৃতির অঙ্গ। তাই খেলাধুলার মধ্য দিয়েই কোন দেশের সাংস্...

বারাসাত বিদ্রোহ ব্যর্থ হয়েছিল কেন?

বারাসাত বিদ্রোহ ব্যর্থ হয়েছিল কেন? বারাসাত বিদ্রোহ ব্যর্থ হয়েছিল কেন? বারাসাত বিদ্রোহ ইসলামের পুনরুজ্জীবন ও ইসলাম ধর্মের কুসংস্কারের বিরুদ্ধে আন্দোলন হিসাবে এই আন্দোলনের সূত্রপাত হলেও অচিরেই তা কৃষক আন্দোলনের চেহারা নেয়। এই আন্দোলনের ব্যর্থতার পিছনে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ লক্ষ্য করা যায় : দুর্বল সংগঠন ও আদিম অস্ত্রশস্ত্রের ব্যবহার, গেরিলা যুদ্ধনীতি ত্যাগ, বৃহত্তর হিন্দু সমাজের সঙ্গে অনৈক্য,  মুসলিম মৌলবীদের একাংশের বিরোধিতা ইত্যাদি। মূলত এই সমস্ত কারণে বারাসাত বিদ্রোহ সাফল্য লাভ করতে পারেনি। --------xx-------- এই প্রশ্নটি অন্য যেভাবে ঘুরিয়ে আসতে পারে : বারাসাত বিদ্রোহের ব্যর্থতার কারণ কী? তিতুমীরের আন্দোলন ব্যর্থ হয়েছিল কেন? বাঁশেরকেল্লা ধ্বংস হল কেন? বারাসাত বিদ্রোহের উপর অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন : বারাসাত বিদ্রোহের প্রকৃতি বিশ্লেষণ করো । তিতুমীর কে ছিলেন? তিনি কী কারণে খ্যাতি লাভ করেছিলেন ? বাঁশেরকেল্লা কী ? বারাসাত বিদ্রোহ কী ?

মাধ্যমিক ইতিহাস ম্যাপ পয়েন্টিং

মাধ্যমিক ইতিহাস ম্যাপ পয়েন্টিং মাধ্যমিক ইতিহাস ম্যাপ পয়েন্টিং মাধ্যমিক পরীক্ষার 👇 মানচিত্র। মডেল সেট মানচিত্র

ইতিহাস ম্যাপ পয়েন্টিং সেট - ০৪

ইতিহাস ম্যাপ পয়েন্টিং সেট - ০৪ ইতিহাস ম্যাপ পয়েন্টিং সেট - ০৪ ম্যাপ পয়েন্টিং :  সেট - ১ ।  সেট - ২ ।  সেট - ৩ । সেট - ৪।  সেট - ৫ ।  সেট - ৬ মাধ্যমিক পরীক্ষার ম্যাপ পয়েন্টিং : মাধ্যমিক : ২০১৭, ২০১৮, ২০১৯

ইতিহাস ম্যাপ পয়েন্টিং সেট - ৩

ইতিহাস ম্যাপ পয়েন্টিং সেট - ০৩ ইতিহাস ম্যাপ পয়েন্টিং সেট - ৩ ম্যাপ পয়েন্টিং :  সেট - ১ । সেট - ২ । সেট - ৩👇। সেট - ৪ । সেট - ৫ । সেট - ৬ মাধ্যমিক পরীক্ষার ম্যাপ পয়েন্টিং : মাধ্যমিক : ২০১৭, ২০১৮, ২০১৯

ইতিহাস ম্যাপ পয়েন্টিং সেট - ০২

ইতিহাস ম্যাপ পয়েন্টিং : সেট - ০২ ম্যাপ পয়েন্টিং :  সেট - ১ । সেট - ২। সেট - ৩ । সেট - ৪ । সেট - ৫ । সেট - ৬ ইতিহাস ম্যাপ পয়েন্টিং সেট - ০২ মাধ্যমিক পরীক্ষার ম্যাপ পয়েন্টিং : মাধ্যমিক : ২০১৭, ২০১৮, ২০১৯

ইতিহাস ম্যাপ পয়েন্টিং সেট - ০১

ইতিহাস ম্যাপ পয়েন্টিং সেট - ০১ ম্যাপ পয়েন্টিং : সেট - ১👇।  সেট - ২ । সেট - ৩ । সেট - ৪ । সেট - ৫ । সেট - ৬ ইতিহাস ম্যাপ পয়েন্টিং সেট - ০১ মাধ্যমিক পরীক্ষার ম্যাপ পয়েন্টিং : মাধ্যমিক : ২০১৭, ২০১৮, ২০১৯

বারদৌলি সত্যাগ্রহের প্রতি জাতীয় কংগ্রেসের মনোভাব

বারদৌলি সত্যাগ্রহের প্রতি জাতীয় কংগ্রেসের মনোভাব : বারদৌলি সত্যাগ্রহের প্রতি জাতীয় কংগ্রেসের মনোভাব বারদৌলি সত্যাগ্রহের প্রতি জাতীয় কংগ্রেসের কীরূপ মনোভাব ছিল? ১৯২৫ খ্রিস্টাব্দে তুলার দাম কমে যাওয়া ও ৩০ শতাংশ রাজস্ব বৃদ্ধির প্রতিবাদে গুজরাটের বারদৌলি তালুকের কৃষকরা ১৩টি স্থানে ব্যাপক কৃষক আন্দোলন গড়ে তোলেন। এই আন্দোলন  ‘বারদৌলি সত্যাগ্রহ আন্দোলন’ নামে পরিচিত। বারদৌলি সত্যাগ্রহের কারণ : তবে তুলোর দাম কমে যাওয়া ও রাজস্ব বৃদ্ধি ছাড়াও এই আন্দোলনের পিছনে আরও কিছু কারণ ছিল। যেমন, উচ্চবর্ণের ‘ উজালীপারাজ ’ বা সাদা মানুষদের দ্বারা ‘ কলিপারাজ’  বা কালো মানুষদের ওপর অত্যাচার ও নারী নির্যাতন। ‘হালিপ্রথা’ র মাধ্যমে বংশানুক্রমিকভাবে বাধ্যতামূলক শ্রমদান মহাজনদের শোষণ । দৈনন্দিন জিনিসপত্রের দাম বৃদ্ধি , ইত্যাদি। এ সমস্ত কারণে স্থানীয় নেতা কল্যানী মেহতা ও কুনবেরজি মেহতা এবং দয়ালজি দেশাই কৃষকদের নিয়ে আন্দোলন শুরু করেন। বারদৌলি সত্যাগ্রহ ও কংগ্রেসের মনোভাব : প্রথমদিকে এই আন্দোলনের সঙ্গে কংগ্রেস নেতাদের তেমন কোন যোগাযোগ ছিল না। কিন্তু ১৯২৫ সালে বারদৌলিতে ভয়ংকর বন্যা এবং ১৯২৭ সা...

‘নারী ইতিহাস’ বলতে কী বোঝো? এর বৈশিষ্ট্য ও গুরুত্ব উল্লেখ করো।

‘নারী ইতিহাস’ বলতে কী বোঝো? নারী ইতিহাসচর্চার বৈশিষ্ট্য ও গুরুত্ব উল্লেখ করো। ‘নারী ইতিহাস’ বলতে কী বোঝো? এর বৈশিষ্ট্য ও গুরুত্ব উল্লেখ করো। What do you mean by women's history? Mention the characteristics and importance of women's historiography. নারী ইতিহাস : আধুনিক ইতিহাস চর্চার একটি অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হল ‘ নারী ইতিহাসচর্চা ’। সমাজের অর্ধেক অংশ জুড়ে নারীর অবস্থান। বলা হয়, তারাই সমাজের মূল চালিকাশক্তি। অথচ যুগ যুগ ধরে অধিকাংশ সমাজে নারীর অবস্থান ছিল বঞ্চনা, অবহেলা ও অন্যায়-অবিচারের আবর্তে মোড়া। আধুনিক ইতিহাসের যে ধারায় নারীর এই অবস্থান, তাদের ভূমিকা ও অধিকারের যথাযথ মূল্যায়নের চেষ্টা করা হয়, তা-ই ‘ নারী ইতিহাস’ নামে পরিচিত। নারী ইতিহাসচর্চা : উল্লেখ্য, এই ‘নারী ইতিহাস’ বিভিন্ন ধারায় বিভক্ত। আধুনিক ইতিহাসচর্চার আলোকে নারী ইতিহাসের এই সব ধারা নিয়ে চর্চার প্রক্রিয়াকে বলা হয়  ‘নারী ইতিহাসচর্চা’ । নারী ইতিহাসচর্চার বৈশিষ্ট্য : নারী ইতিহাসচর্চার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হল : পুরুষতান্ত্রিক ইতিহাস সংশোধন : মানব সভ্যতার ইতিহাসে পুরুষের পাশাপাশি নারীদের ভূমিকা ...

ভারত সভার প্রতিষ্ঠা ও বিকাশে সুরেন্দ্রনাথ ব্যানার্জির ভূমিকা

ভারত সভার প্রতিষ্ঠা ও বিকাশে সুরেন্দ্রনাথ ব্যানার্জির ভূমিকা বিশ্লেষণ কর। ভারত সভার প্রতিষ্ঠা ও বিকাশে সুরেন্দ্রনাথ ব্যানার্জির ভূমিকা জাতীয় কংগ্রেস প্রতিষ্ঠার পূর্বে ঐক্যবদ্ধ ভারত গড়ে তোলার ভাবনায় প্রভাবিত হয়ে ইংরেজদের বিরুদ্ধে একটি সর্বভারতীয় রাজনৈতিক সংগঠন গড়ে তোলার কথা, প্রথম সংহতভাবে চিন্তা করেছিলেন সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়। ১৮৭৬ খ্রিস্টাব্দের ২৬ শে জুলাই সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়, আনন্দমোহন বসু, শিবনাথ শাস্ত্রী, কৃষ্ণমোহন বন্দোপাধ্যায় প্রমুখদের নিয়ে কলকাতার অ্যালবার্ট হলে ‘ ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন ’ বা ‘ ভারত সভা ’ প্রতিষ্ঠা করেন।  সর্বসাধারণের প্রতিষ্ঠান : ভারত সভা প্রতিষ্ঠার পূর্বে প্রায় সব ‘ সভা-সমিতি ’ ছিল একদিকে আঞ্চলিক এবং অন্যদিকে জমিদার ও ধনী শ্রেণির দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় ‘ভারত সভা’র দরজা উন্মুক্ত করে দিয়েছিলেন শিক্ষিত মধ্যবিত্ত ও সাধারণ মানুষের জন্য। এখানে বাৎসরিক চাঁদার হার ৫ টাকা হলেও কৃষকদের দিতে হত মাত্র এক টাকা।  মধ্যবিত্ত জন্য দাবী : শুধু জমিদার শ্রেণির নয়, মধ্যবিত্ত শ্রেণির দাবী ও অধিকার আদায়ের লক্ষ্যেও ‘ ভার...

মহাবিদ্রোহের প্রতি শিক্ষিত বাঙালি সমাজের মনোভাব

মহাবিদ্রোহের (১৮৫৭) প্রতি শিক্ষিত বাঙালি সমাজের মনোভাব কীরূপ ছিল? মহাবিদ্রোহের প্রতিশিক্ষিত বাঙালি সমাজের মনোভাব ১৮৫৭ সালে মহাবিদ্রোহের সূত্রপাত বাংলার বহরমপুর ও বারাকপুর থেকে হলেও বাংলায় এই বিদ্রোহের প্রভাব ও প্রসার সেভাবে ঘটেনি। সংবাদপত্রের মনোভাব : দিল্লি ও উত্তর ভারতে উর্দু সংবাদপত্রগুলি বিদ্রোহ চলাকালীন বিদ্রোহীদের আত্মবিশ্বাস ও মনোভাব বাড়িয়ে তোলার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল। অন্যদিকে বাংলায় ‘সংবাদ প্রভাকর’, ‘সংবাদ ভাস্কর’, ‘অরুনদয়’-এর মত সংবাদপত্রগুলি বিদ্রোহীদের প্রতি তীব্র বিদ্বেষ প্রদর্শন করে ও ব্রিটিশ শাসনের প্রতি অবিচল আনুগত্য প্রদর্শন করে। সভা সমিতির মনোভাব : ‘ ব্রিটিশ ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন ’, ‘ মোহামেডান অ্যাসোসিয়েশন অফ ক্যালকাটা ’র মত অনেক সভা-সমিতি এই বিদ্রোহকে নিন্দা করে সরকারকে সব রকমের সাহায্যের আশ্বাস দেয়। বাঙালি বুদ্ধিজীবীর মনোভাব : সেই সময়ের শিক্ষিত বাঙালি সমাজের প্রতিনিধি হিসেবে অক্ষয় কুমার দত্ত, ঈশ্বর চন্দ্র গুপ্ত, কিশোরী চাঁদ মিত্র, রাজনারায়ণ বসু, দুর্গাদাস বন্দ্যোপাধ্যায় প্রমূখরা এই বিদ্রোহকে সমর্থন করেননি। ব্রিটিশের পক্ষে সহযোগিতা : ...

শিক্ষিত বাঙালি সমাজ মহাবিদ্রোহের বিরোধিতা করেছিল কেন?

শিক্ষিত বাঙালি সমাজের একটি অংশ কেন মহাবিদ্রোহের (১৮৫৭) বিরোধিতা করেছিল? শিক্ষিত বাঙালি সমাজ মহাবিদ্রোহের বিরোধিতা করেছিল কেন? শিক্ষিত বাঙালি সমাজের একটি অংশের মহাবিদ্রোহের (১৮৫৭ খ্রিঃ) বিরোধিতা করার পিছনে যুক্তি ছিল— ১) সামন্ততান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার পুনঃপ্রতিষ্ঠার ভয় : শিক্ষিত বাঙালি মধ্যবিত্ত শ্রেণির একটি অংশ মনে করেছিল যে, বিদ্রোহিরা সফল হলে ভারতে মধ্যযুগীয় সামন্ততান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা পুনঃ প্রতিষ্ঠিত হবে এবং ইংরেজরা যে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে শুরু করেছিল তা ব্যহত হবে। ২) চাকরি হারাবার ভয় : শিক্ষিত বাঙালি সমাজের একটি অংশ ইংরেজ সরকারের অধীনে কর্মরত ছিল। বিদ্রোহিরা সফল হলে তাদের কাজ হারাবার আশঙ্কায় তারা মহাবিদ্রোহের বিরোধিতা করেছিল। ৩) পাশ্চাত্য শিক্ষা ব্যাহত হবার ভয় : উনিশ শতকের বাংলা তথা ভারতে পাশ্চাত্য শিক্ষা ও বিজ্ঞান চর্চার প্রসার ব্যহত হতে পারে, এই আশঙ্কায় শিক্ষিত বাঙালি সমাজ এই বিদ্রোহের বিরোধিতা করেছিল। প্রকৃতপক্ষে বিদ্রোহীদের প্রতি শিক্ষিত বাঙালি সমাজের বিরূপ মনোভাব এবং ইংরেজ শাসকদের প্রতি সহানুভূতিশীল মানসিকতার কারণেই তাঁরা এই বিদ্রোহের বিরোধিতা করেছিল। ----------xx-----...

বহুল পঠিত প্রশ্ন-উত্তর এখানে

সাঁওতাল বিদ্রোহের কারণ ও ফলাফল আলোচনা করো

সাঁওতাল বিদ্রোহের কারণ ও ফলাফল আলোচনা করো অথবা           টীকা লেখা : সাঁওতাল বিদ্রোহ উনবিংশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে যে সমস্ত উপজাতি বিদ্রোহ হয়েছিল, তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল সাঁওতাল বিদ্রোহ। ব্রিটিশ সরকারের উপনিবেশিক শাসন বজায় রাখার জন্য,  ব্রিটিশ সরকার যে সমস্ত ভূমি সংস্করণ আইন পাশ করেছিল, তা ভারতীয় উপজাতিদের ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছিল। তাই শেষ পর্যন্ত ১৮৫৫ খ্রিস্টাব্দে সাঁওতালরা বিদ্রোহ করতে বাধ্য হয়, যা সাঁওতাল বিদ্রোহ নামে পরিচিত।    সাঁওতাল বিদ্রোহের কারণ বিহারের রাজমহল থেকে পশ্চিমবঙ্গের বিস্তীর্ণ অঞ্চলের  শান্তিপ্রিয় সাঁওতালরা বিভিন্ন কারণে ব্রিটিশদের উপর ক্ষুব্ধ হয়েছিল—  ক) জমির উপর ব্রিটিশদের অধিকার:- সাঁওতালরা জঙ্গল পরিষ্কার করে  জমি তৈরি করে চাষবাস শুরু করলে ব্রিটিশ সরকার সাঁওতালদের কাছে বিপুল হারে রাজস্বের পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়। ফলে সাঁওতালরা জমি ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়।    খ) সাঁওতালদের সর্বস্বান্ত :  ব্রিটিশ সরকার ভূমিরাজস্ব ছাড়াও অন্যান্য কর ও ঋণের দায়ভার সাঁওতালদের উপর চাপিয়ে দেয়। ফলে সাঁও...

খুৎকাঠি প্রথা কী?

খুঁৎকাঠি বা কুন্তকট্টি হল এক ধরনের ভূমি ব্যবস্থা যা মুন্ডা সম্প্রদায়ের মধ্যে প্রচলিত ছিল। এই ব্যবস্থায় জমিতে ব্যক্তি মালিকানার পরিবর্তে যৌথ মালিকানা স্বীকৃত ছিল। ব্রিটিশ সরকার এই ব্যবস্থা বাতিল করে ব্যক্তি মালিকানা চালু করলে মুন্ডাদের জমি গুলি বহিরাগত জমিদার, ঠিকাদার ও মহাজনদের হাতে চলে যায়। ফলে মুন্ডারা বিদ্রোহ ঘোষণা করে। অবশেষে ১৯০৮ সালে ছোটনাগপুর প্রজাস্বত্ব আইনের মাধ্যমে ব্রিটিশ সরকার মুন্ডাদের এই প্রথা (ভূমি ব্যবস্থা) ফিরিয়ে আনে। অন্যান্য প্রশ্ন : ভারতীয় অরণ্য আইন কী? ব্রিটিশ সরকার কেন অরণ্য আইন পাশ করেছিল? বারাসাত বিদ্রোহ কী? বাঁশেরকেল্লা কী? খুৎকাঠি প্রথা কী? দাদন প্রথা কী? সন্ন্যাসী ও ফকির বিদ্রোহ ব্যর্থ হয় কেন? ওয়াহাবি আন্দোলনের লক্ষ্য আদর্শ কী ছিল? ফরাজি আন্দোলন কি ধর্মীয় পুনর্জাগরণের আন্দোলন? তিতুমীর স্মরণীয় কেন? দুদুমিয়া স্মরণীয় কেন? দামিন-ই-কোহ কী? মুন্ডা বিদ্রোহের লক্ষ্য কী ছিল?  নীল বিদ্রোহে হরিশচন্দ্র মুখার্জীর ভূমিকাকী ছিল? নীল বিদ্রোহে খ্রিস্টান মিশনারীদের ভূমিকা কী ছিল? 'দার-উল-হারব' এবং 'দার-উল- ইসলাম' কথার অর্থ কী? নীলকররা নীল চাষীদের উপর...

নীল বিদ্রোহের কারণ কী? এই বিদ্রোহের বৈশিষ্ট্য ও গুরুত্ব লেখ।

নীল বিদ্রোহ : কারণ, বৈশিষ্ট্য ও গুরুত্ব : আঠারো শতকে ইংল্যান্ডের শিল্প বিপ্লব হয়। ফলে সেখানে বস্ত্র শিল্পের প্রয়োজনে নীলের চাহিদা বাড়ে। ১৮৩৩ সালে সনদ আইন এর ফলে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির একচেটিয়া বাণিজ্যের অধিকার লুপ্ত হলে কোম্পানির কর্মচারিরা ব্যক্তিগতভাবে নীল চাষে নেমে পড়ে। অধিক মুনাফার আশায় এইসব কর্মচারীরা নীল চাষীদের উপর সীমাহীন শোষণ ও অত্যাচার শুরু করে। এই শোষণ ও অত্যাচারের বিরুদ্ধে নীল চাষিরা হাজার ১৮৫৯ সালে বিদ্রোহ ঘোষণা করে। এই বিদ্রোহ নীল বিদ্রোহ নামে খ্যাত।  নীল বিদ্রোহের কারণ  (পটভূমি ) : নীল বিদ্রোহের পিছনে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ লক্ষ্য করা যায়। ১) কৃষকের ক্ষতি: নীল চাষের চাষের যে খরচ হতো মিল বিক্রি করে চাষির সে খরচ উঠতো না। ফলে চাষীরা ক্ষতিগ্রস্ত হতো। ২) খাদ্যশস্যের অভাব:  নীল চাষ করতে গিয়ে কৃষকেরা খাদ্যশস্যের উৎপাদন প্রয়োজন মতো করতে পারত না। কারণ নীলকর সাহেবরা চাষীদের নীল চাষে বাধ্য করতেন। ফলে চাষির ঘরে খাদ্যাভাব দেখা দেয়। ৩) নীলকরদের অত্যাচার :  চাষিরা নীল চাষ করতে অস্বীকার করলে নীলকর সাহেবরা তাদের উপর নির্মম অত্যাচার।...

১৮৫৭ সালের বিদ্রোহের চরিত্র ও প্রকৃতি আলোচনা করো:

১৮৫৭ খ্রীষ্টাব্দের বিদ্রোহের প্রকৃতি: ১৮৫৭ খ্রীষ্টাব্দের বিদ্রোহের প্রকৃতি নিয়ে ঐতিহাসিকদের মধ্যে মতবিরোধ আছে. এক পক্ষের ঐতিহাসিকরা বলেন, এটি ছিল নিছক সিপাহী বিদ্রোহ। অপরপক্ষ বলেন, এটি ছিল জাতীয় আন্দোলন। তা ছাড়াও কেউ কেউ আবার এই বিদ্রোহকে ভারতের প্রথম স্বাধীনতা সংগ্রাম, সামন্ততান্ত্রিক প্রতিবাদ, কৃষক বিদ্রোহ, মুসলিম চক্রান্ত প্রভৃতি নানা নাম অভিহিত করেছেন। ১) সিপাহী বিদ্রোহ:   ইংরেজ ঐতিহাসিক চার্লস রেক্স, হোমস, এবং ভারতীয়দের মধ্যে কিশোরীচাঁদ মিত্র, দুর্গাদাস বন্দ্যোপাধ্যায় প্রমুখ ১৮৫৭ সালের বিদ্রোহকে নিছক সিপাহী বিদ্রোহ বলেছেন। তাঁদের বক্তব্য - ক)১৮৫৭ সালের বিদ্রোফের চালিকাশক্তি ছিলেন সিপাহীরাই। তাদের অসন্তোষ থেকেই বিফ্রহের সূচনা হয়েছিল। খ) এই বিদ্রোহে ভারতীয় জাতীয় চেতনার অগ্রদূত শিক্ষিত মধ্যবিত্ত শ্রেণী যোগদান করেনি বা ভারতের সমস্ত অঞ্চলের রাজারা আন্দোলনকে সমর্থন করেনি। ২) জাতীয় আন্দোলন: ঐতিহাসিক নর্টন, জন কে, কার্ল মার্কস প্রমুখ ১৮৫৭ খ্রীষ্টাব্দের বিদ্রোহকে জাতীয় বিদ্রোহ বলে অভিহিত করেছেন। তাঁদের মতে , ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলের জনগণ স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে আন্দোলনে যোগদান করেছিল; বিদ্রোহ...

কে, কবে, কেন ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন?

ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ প্রতিষ্ঠার কারণ  লর্ড ওয়েলেসলি ১৮০০ সালে কলকাতায় ‘ ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ’  প্রতিষ্ঠা করেন। কারণ, তারা মনে করতেন, ১) ভারতীয়রা আধুনিক পাশ্চাত্য শিক্ষা পেলে ভবিষ্যতে তাদের মধ্যে  স্বাধীনতার স্পৃহা জেগে উঠবে  এবং এদেশে কোম্পানির শাসন সংকটের মধ্যে পড়বে। ২) এছাড়া ভারতীয়দের  ধর্মভিত্তিক শিক্ষাব্যবস্থায় হস্তক্ষেপ করলে  তারা ব্রিটিশ সরকারের প্রতি ক্ষুব্ধ হয়ে উঠতে পারে। ৩) এই আশঙ্কা থেকেই মূলত তারা  আধুনিক পাশ্চাত্য শিক্ষার পরিবর্তে সংস্কৃত ও আরবি-ফারসি শিক্ষার ওপর গুরুত্ব  আরোপ করেন এবং  ধর্মভিত্তিক সনাতন শিক্ষাব্যবস্থার মাধ্যমে ইংরেজ রাজকর্মচারীদের ভারতীয়দের ধর্ম-সমাজ-সংস্কৃতি বিষয়ে শিক্ষিত করে  এদেশে কোম্পানির শাসনকে সুদৃঢ় করার পরিকল্পনা করেন। মূলত, এই কারণেই লর্ড ওয়েলেসলি ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ গড়ে তোলেন। --------xx------- এই প্রশ্নটিই অন্য যেভাবে ঘুরিয়ে আসতে পারে : ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ প্রতিষ্ঠার কারণ কী ছিল? ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ গড়ে তোলার উদ্দেশ্য কী ছিল? ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ কী? কত সালে, কোথায়, কোন লক্ষ্যে ফোর্ট উইলিয...

তিন আইন কী?

 তিন আইন কী ব্রাহ্ম সমাজ আন্দোলনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ফলাফল হল ' তিন আইন'   পাস হওয়া।  ১৮৬৬ সালে কেশবচন্দ্র সেনের নেতৃত্বে ভারতবর্ষীয় ব্রাহ্মসমাজ বাল্যবিবাহ, বহুবিবাহ ও অসবর্ণ বিবাহ বিষয়ে ব্যাপক আন্দোলন গড়ে তোলেন। এই আন্দোলনের প্রভাবে ব্রিটিশ সরকার উৎসাহিত হয় এবং  ১৮৭২  সালে একটি আইন প্রণয়ন করে। এই আইনের ফলে  বাল্যবিবাহ  ও  বহুবিবাহ  প্রথা নিষিদ্ধ এবং   অসবর্ণ বিবাহ  বৈধ বলে ঘোষণা করা হয়। বিবাহ সংক্রান্ত এই তিনটি বিষয়কে কেন্দ্র করে তৈরি এই আইন ইতিহাসে ' তিন আইন'  নামে পরিচিত। 

নতুন সামাজিক ইতিহাস কী?

নতুন সামাজিক ইতিহাস কী? ইতিহাস হল মানব সভ্যতার ক্রমবিবর্তনের ধারাবাহিক বিবরণ । অতীতে ইতিহাসে শুধুমাত্র রাজা-মহারাজা কিংবা অভিজাতদের কথা লেখা থাকতো। বর্তমানে এই ধারায় পরিবর্তন এসেছে। এখন এখানে সাধারণ মানুষ, নিম্নবর্গীয় সমাজ, এমনকি প্রান্তিক অন্তজদের সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক এবং ধর্মীয় জীবনের বিবর্তনের কথা ও সমানভাবে গুরুত্ব পাচ্ছে। আধুনিক ইতিহাসচর্চার এই ধারা  নতুন সামাজিক ইতিহাস  নামে পরিচিত। জেনে রাখা ভালো : ইতিহাস কাকে বলে ?

মানুষ, প্রকৃতি ও শিক্ষার সমন্বয় বিষয়ে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের চিন্তাধারা বিশ্লেষণ করো।

রবীন্দ্রনাথের শিক্ষাদর্শন ও জীবনদর্শনের প্রধান এবং গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো প্রকৃতি। তাঁর মতে, প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্থার একটি বড় ত্রুটি হল, প্রাকৃতিক পরিবেশ থেকে শিক্ষার বিচ্ছিন্নতা। আর এজন্য আমাদের দেশের শিক্ষা শুধু অসম্পূর্ণই নয়, যান্ত্রিক এবং হৃদয়হীনও বটে। শিক্ষা ও তার লক্ষ্য : তাঁর মতে, শিক্ষা হলো বাইরের প্রকৃতি ও অন্ত:প্রকৃতির মধ্যে সমন্বয় সাধন। এই সমন্বয় সাধনের মাধ্যমে জাতির উপযোগী, দক্ষ ও কল্যাণকামী সদস্য হিসেবে নিজেকে গড়ে তোলাই হলো শিক্ষার লক্ষ্য। লক্ষ্য পূরণের উপায় : তাঁর মতে, এই লক্ষ্য পূরণের জন্য একজন শিশুর প্রকৃতির সান্নিধ্যে এসে তার দেহ মন সুসংগঠিত করতে হয়। এটা করলেই সে পরমসত্তাকে উপলব্ধি করতে পারে। লক্ষ্য পূরণের উদ্যোগ : শান্তিনিকেতনের ভাবনা : ১) শান্তিনিকেতন প্রতিষ্ঠা : এই কারণেই তিনি প্রাচীন তপবনের শিক্ষার আদর্শ অনুপ্রাণিত হয়ে শান্তিনিকেতন স্থাপন করেছিলেন। এখানে শিক্ষক ও শিক্ষার্থী প্রকৃতির স্নিগ্ধ ও সুশীতল পরিবেশে বসবাস করে শিক্ষা দান ও শিক্ষা গ্রহণ সম্পন্ন করতে পারে। ২) হিতৈষী তহবিল তৈরি : পল্লীগ্রামের মানুষের কল্যাণে এবং কৃষির উন্নতির জন্য গড়ে তোলেন হিতৈষী তহবি...

শিক্ষার চুঁইয়ে পড়া নীতি' বলতে কী বোঝ?

'শিক্ষার চুঁইয়ে পড়া নীতি' বলতে কী বোঝ? শিক্ষার চুঁইয়ে পড়া নীতি' বলতে কী বোঝ? লর্ড বেন্টিং-এর আইন সচিব টমাস ব্যাবিংটন মেকলে  ১৮৩৫  সালে ভারতে পাশ্চাত্য শিক্ষার প্রসারের দাবি জানিয়ে একটি প্রস্তাব দেন যা  ' মেকলে মিনিটস '  নামে পরিচিত। এই প্রস্তাবে পাশ্চাত্য শিক্ষা প্রবর্তনের স্বপক্ষে যুক্তি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, এদেশের উচ্চ ও মধ্যবিত্তদের মধ্যে ইংরেজি শিক্ষার প্রসার ঘটবে এবং তাদের দ্বারা তা চুইয়ে ক্রমশ সাধারণ দেশবাসীর মধ্যে ছড়িয়ে পড়বে। ফলে ভারতীয়রা রুচি, মত, নৈতিকতা ও বুদ্ধিমত্তায় ইংরেজদের মত হয়ে উঠবে। ইংরেজি শিক্ষার প্রসারের উদ্দেশ্যে মেকলের নেওয়া এই নীতি   ' চুঁইয়ে পড়া নীতি '   নামে পরিচিত। ------------xx----------- এই প্রশ্নের বিকল্প প্রশ্নগুলি হল : মেকলে মিনিটস কী?মেকলে মিনিটস এর অন্তর্ভুক্ত চুইয়ে পড়া নীতি ব্যাখ্যা করো। চুঁইয়ে পড়া নীতি কাকে বলে? এই নীতি কী ভাবে কাজ করে? কে কেন এবং কোথায় চুইয়ে পড়া নীতির কথা বলেছিলেন? এই বিষয়ে অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন : ভারতের পাশ্চাত্য শিক্ষার প্রসারে 'মেকলে মিনিটস'র অবদান কী '? মেকল...

টীকা লেখ : প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যবাদী দ্বন্দ্ব

টীকা লেখ : প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যবাদী দ্বন্দ্ব ১৮১৩ সালের ব্রিটিশ পার্লামেন্ট ভারতবর্ষের শিক্ষার উন্নতিকল্পে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিকে বার্ষিক এক লক্ষ টাকা খরচের নির্দেশ দেয়। এই নির্দেশ কে কেন্দ্র করে শিক্ষানুরাগী ব্যক্তিবর্গ প্রাচ্যবাদী ও পাশ্চাত্যবাদী এই দু'ভাগে বিভক্ত হয়ে যায়। প্রাচ্যবাদী ও পাশ্চাত্যবাদী দ্বন্দ্ব : যে সমস্ত শিক্ষা অনুরাগী এই সময় পাশ্চাত্য শিক্ষার প্রসারের জন্য এই অর্থ ব্যয় করার পক্ষে ছিলেন তাদেরকে বলা হতো পাশ্চাত্যবাদী বা অ্যাংলিসিস্ট । অন্যদিকে যারা প্রাচ্য শিক্ষায় কথা সনাতন শিক্ষার প্রসারের জন্য মতামত প্রকাশ করেন তাদেরকে বলা হয় প্রাচ্যবাদী বা ওরিয়েন্টালিস্ট । আর এই দুই গোষ্ঠীর মতদ্বৈততা বা দ্বন্দ্বকে প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য বাদী দ্বন্দ্ব নামে অভিহিত করা হয়। জনশিক্ষা কমিটি গঠন : এই দ্বন্দ্ব মেটানোর জন্য ১৮২৩ সালে গঠন করা হয় জনশিক্ষা কমিটি বা কমিটি অফ পাবলিক ইনস্ট্রাকশন। কিন্তু এই কমিটির ঐক্যমতে উপনীত হতে ব্যর্থ হন। প্রাচ্যবাদীদের মতামত : প্রাচ্যবাদীরা মনে করতেন প্রাচ্য শিক্ষায় প্রকৃত শিক্ষা এর মধ্যেই দেশের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি জড়িয়ে রয়েছে ।তাই এই শিক্ষা...